জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে কেনাবেচা শুরু হলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বাজার। ক্রেতাদের অভিযোগ, পশুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বেপারীরা বলছেন, খামার ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন, আর বাজার পরিস্থিতি বুঝতে দুপক্ষই এখন অপেক্ষায়।
ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা পশুর যে দাম চাচ্ছেন তাতে বাজার চড়া হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, এবার ক্রেতাদের মনোভাব মন্দা, বাজারও মন্দা যেতে পারে- এতে তাদের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। যদিও হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশু বেচাকেনা জম উঠতে পারে রোববার থেকে। আর জমজমাট কেনাবেচা হবে ঈদের আগের দুদিন তথা মঙ্গলবার ও বুধবার।
রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাটে ৫২টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি তোজাম্মেল হক। তিনি ঝিনাইদহের তিশান তানিশা এগ্রো ফার্মের কর্ণধার। তার কাছে দেড় লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখের গরু আছে। এখন পর্যন্ত ২টি গরু বিক্রি করেছেন।
জানতে চাইলে শুক্রবার রাতে (২২ মে) তোজাম্মেল হক বলেন, ‘গরু কিনতে অনেকেই আসছেন। কিন্তু দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। গতবারও এই হাটে এসেছিলাম। এমন সময় ক্রেতারা কমবেশি দাম বলতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। দেখা যাক, সময় তো আছে কি হয়।’
একই হাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ কালুপুরের পায়াস্কিনী এগ্রোর ২০টি গরু উঠানো হয়েছে। খামারটির কর্ণধার মির্জা ইমন বলেন, ‘এখনো কোনো গরু বিক্রি হয়নি। অনেক ক্রেতারা দামই বলছেন না, যারা বলছেন তা একেবারেই কম।’
গরুগুলোর লালন-পালনকারী ও খামারির আত্মীয় মো. দিল্লু বলেন, ‘আমরা ফিট খাইয়ে গরু তিন মাসে বড় করিনি। খামারে দুই বছর লালন পালন করেছি। অনেক খরচা হয়েছে। কিন্তু কাস্টমাররা যে দাম বলতাছে তাতে এবার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখতাছি।’
সিরাজগঞ্জের বেলাল বেপারী বড় সাইজের ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন। আড়াই লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত দামের গরু আছে বলে জানান তিনি। পথে রয়েছে আরও এক ট্রাক গরু। কিন্তু এখনও তার কোনো গরু বিক্রি হয়নি।
জানতে চাইলে বেলাল বেপারী বলেন, ‘যে দাম বলে তা বেচার মতো না। মনে হচ্ছে এবার বাজার মন্দা হবে।’
চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও ফেনীর খামারী স্বপন হাছানসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও খামারী এবারের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন।
তবে ক্রেতাদের ধারণা ভিন্ন। তারা বলছেন, এবার পশুর দাম বেশি। ব্যবসায়ীরা যে দাম চাচ্ছে তাতে দামাদামি করতে দ্বিধাবোধ করছেন তারা। তাই পশু না কিনে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণই সংযত থাকছেন তারা।
স্ত্রীকে নিয়ে শুক্রবার রাতে শাহজানপুর পশুর হাটে আসেন বাসাবো এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম আসিফ। একটি গরু অনেকক্ষণ দামাদামি করছিলেন তারা।
পরে আসিফ বলেন, ১ লাখ ৭৫ হাজার দাম চেয়েছে গরুটির। ১ লাখ ৬৫ হাজারের নিচে দেবে না বলল। গত বছর এমন গরু ১ লাখ ২০ হাজার-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১ লাখ ৪০ বলেছি। আরেকটু বাড়ালেও দেবে না।
আসিফ আরো বলেন, দাম একটু কম-বেশি হলেও আমরা আগেভাগেই গরু কিনে ফেলি। দেখার জন্য আসেনি। কিন্তু মনে হচ্ছে আজকে দেখেই যেতে হবে। দাম অনেক চড়া।
খিলগাঁও আনসার হেডকোয়ার্টার এলাকার তানভীর শাহজানপুর হাট থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় গরু কিনেছেন।
হাসিল জমা দেওয়ার পর কথা হলে তানভীর বলেন, দাম একটু বেশি হয়েছে। কোরবানি তো তাই কিছু করার নাই কিনে ফেলছি।
খিলগাঁও যুব উন্নয়ন অফিসার আবুল কালাম আজাদ বাজার ঘুরেছেন গরু কিনতে। তিনি বলেন, কেনার মতো দামই বলছে না। অনেক দাম চান ব্যবসয়ীরা। তাই গরু কিনতে পারিনি। এখন আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি এখনই বলা সম্ভব না। বাজার পুরোপুরি জমলে বুঝা যাবে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়।
হাটটির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা আসলাম পারভেজ বলেন, বাজার জমবে আরও ১/২ দিন পর। ঢাকার মানুষ ওই সময় গরু কেনেন। কারণ অনেকেরই গরু রাখার জায়গা নাই। তাই বাজারে বিকিকিনি জমজমাট না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না পরিস্থিতি কি হয়।
এএম/এমআর