images

অর্থনীতি

কড়াকড়ি সত্ত্বেও পশুবাহী ট্রাক জোর করে অন্য হাটে নেওয়ার অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৩ মে ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আবারো সামনে এসেছে পথে জোরপূর্বক গন্তব্য বদলে দেওয়ার অভিযোগ। নির্দিষ্ট হাটের উদ্দেশে আনা পশুবাহী ট্রাক ঢাকার প্রবেশপথেই আটকে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ইজারাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

‘ছিনতাই মামলা’সহ কঠোর আইন প্রয়োগের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এতে হাটের আয় বণ্টন ও ব্যবসার ভারসাম্য নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের একটি হাট উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গার অস্থায়ী পশুর হাট। হাটটি তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা আসলাম পারভেজ শুক্রবার (২২ মে) রাতে অভিযোগ করেন, তাদের হাটের উদ্দেশে আসা বেশকিছু পশুবাহী ট্রাক পথে আটকে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিন বলেন, ‘আমাদের হাট শহরের মাঝখানে। এখানে পশু নিয়ে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাক আটকে দিয়ে বিভিন্ন হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা তো অনেক খারাপ জিনিস।’

আসলাম খানের দাবি, শুক্রবারও বেশ কিছু ট্রাক বাধা দিয়ে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকার একটি হাট থেকে দুটি ট্রাক ছাড়িয়ে আনা হয়। তবে সেখানে আরও ৫/৬ টি ট্রাকের পশু তুলে ফেলায় আনা সম্ভব হয়নি।

‘আজকে প্রায় বিশ বছর ধরে এই হাট বসছে। আমরা এক মাস আগে তিন হাজার ব্যানার করে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ী ও খামারিদের কাছে পাঠিয়েছি। এই ব্যানার ট্রাকের সামনে বেঁধে পশু আনা হয়। কিন্তু পথের মধ্যে ট্রাকগুলো আটকে রেখে বিভিন্ন স্থানের হাটে রেখে দিচ্ছে। এ রকম অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। যেমন আজকে চেরাগআলী থেকে দুটি গরুর ট্রাক বের করে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে আরও ৫/৬ ট্রাক গরু আটকে রেখে দিয়েছে। আমরা আনতে পারিনি। আরও অনেক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে আমরা খবর পাচ্ছি।’

হাটটির তত্ত্বাবধায়ক ক্ষোভ করে বলেন, ‘আমরা তিন কোটি ১২ লাখ টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি। আমাদের এখানে কত পশু আসবে সেই টার্গেট করেই এত টাকা দিয়ে হাট নেওয়া হয়েছে। এখন পশু অন্য হাটে চলে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

এক হাটের পশু অন্য হাটে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এমন অভিযোগ সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হাট সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায়ও উঠে আসে। সভায় এক হাটের গরু অন্য হাটে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অতীতের কথা তুলে ধরেন ইজারাদাররা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং এবং আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যবসায়ী বা খামারি জোরপূর্বক অন্য হাটে পশু নেওয়ার অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে ‘ছিনতাই মামলা’ করা হবে। পরে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পথে পশুবাহী যানবাহন আটকে নানা প্রলোভন দেখানো হয়। ভালো দাম পাওয়া, ভালো সুযোগ-সুবিধার ব্যবসা থাকা এবং ঢাকার হাটে লোকসান গুনতে হতে পারেসহ নানাভাবে বিভ্রান্ত করে ওইসব হাটে পশু উঠাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে অনেকে জানাচ্ছেন না।

এএম/এমআর