images

অর্থনীতি

ক্রেতা কম তেজগাঁও হাটে, অলস সময় পার করছেন বেপারীরা

সাখাওয়াত হোসাইন

২৩ মে ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে পশু। প্রতিটি হাটেই কোরবানির পশুতে ভরে গেছে। ব্যতিক্রম নয় তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠের হাটও। ট্রাকে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এই হাটে পশু আনছেন বেপারী ও খামারিরা। তবে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেচাবিক্রি জমে ওঠেনি। বিক্রেতারা আশা করছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলে বাজার চাঙা হবে এবং বিক্রি বাড়বে।

জামালপুর থেকে ১৮টি গরু নিয়ে তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠের হাটে এসেছেন আব্দুস সামাদ। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা ও লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত। এই হাটে এবারই প্রথম এসেছেন। পলিটেকনিক মাঠে ভেতরেই জায়গা পেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল চারটার দিকে কথা হয় আমিনুল হকের সঙ্গে। ঢাকা মেইলকে তিনি জানান, একদিন হলো এই মাঠে এসেছেন। এখনও তার কোনো গরু বিক্রি হয়নি। আরো একদিন পর থেকে গরু বিক্রি হওয়া শুরু হবে বলে আশা তার।

আব্দুস সামাদ জানান, তিনি রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরু বিক্রি করেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হাটে গরুর সংখ্যা বেশি থাকলেও ক্রেতা কম। তবে তিনি আশা করছেন, এ বছর গরু বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন।

Dhaka-2হাটটিতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে গরু আসছে সেখানে। কেনাবেচা জমে না ওঠায় অলস সময় পার করছেন বেপারীরা। তারা গরুর সেবাযত্ন করে সময় পার করছেন। মাঝেমধ্যে দু-একটা গরু বিক্রিও হতে দেখা গেছে। ক্রেতারা এসে ঘুরে ঘুরে কোরবানির পশু দেখছেন, পছন্দ করছেন। কোনো গরু পছন্দ হলে বিক্রেতার কাছে দাম জানতে চাইছেন, দামাদামি করছেন। কেউ কেউ আবার দাম শুনেই এগিয়ে যাচ্ছেন পরের গরু দেখতে। গরু রাখার নির্ধারিত জায়গাগুলো ভরে গেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা।

গাইবান্ধা থেকে আসা খামারি রুহুল আমিন বলেন, ‘২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এখনও একটি গরুও বিক্রি হয়নি। সামনে জায়গা পেতে আগেভাগেই এসেছি। এখন জায়গা ভালো না হলে ক্রেতা কম আসে। খাবারের দামও অনেক বেড়েছে। ভূসি, খৈল, খড়; সবকিছুর খরচ আগের চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, গরু বড় করতে প্রায় এক বছর খরচ করেছি। কিন্তু পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়াও বেশি নিচ্ছে। এখন যদি ঠিকমতো দাম না পাই, তাহলে লাভ কমে যাবে।

মাঠে পাশেই ১৩টি গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী ও খামারি আজাদ আলী। তিনি প্রথম দিনেই দুটি গরু বিক্রি করেছেন। এসব গরুর মধ্যে একটি বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যটি বিক্রি করেছেন এক লাখ ৯৫ হাজার টাকায়। বাকি গরুগুলোর দামও এক লাখ ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা মধ্যেই চাইছেন তিনি।

আজাদ আলী জানান, এই হাটে এখনো ক্রেতা সংখ্যা হাতেগোনা। আরো দুইদিন গেলে বেচাকেনা জমবে। এখন যারাই আসছেন বেশিরভাগ দামাদামি এবং গরু পছন্দ করে যাচ্ছেন। এ বছর ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে ক্রেতারা ঝুঁকছে বেশি। যেসব গরুর দাম ১ লাখ থেকে দুই লাখ টাকা এসব গরুর চাহিদা বেশি।

Dhaka-3ঢাকার মালিবাগ থেকে গরু কিনতে হাটে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী মুমিন আহমেদ। শুরুতেই তিনি হাট ঘুরে দেখেছেন এবং কয়েকটি গরু পছন্দও করেছেন। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এ বছর অনেক গরু বাজারে এসেছে। দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। এমনিতেই প্রতিবছর গরুর দাম বাড়ে। প্রতিবছরই মাঝারি মানের গরু কিনি, এবারও তাই করব। আরো একদিন হাট ঘুরে দেখব, এরপর গরু কিনব।’

রাজধানীর প্রায় গরুর হাটের একই চিত্র রয়েছে। হাটে বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ক্রেতা সংখ্যা কম রয়েছে। ঈদের বাজার ধীরে ধীরে জমে উঠছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীতে ২৬টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাটে পশু বিক্রি হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছে ১২টি। পাশাপাশি সারুলিয়া স্থায়ী হাটেও কোরবানির পশু বিক্রি হবে। অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ে খালি জায়গায়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায়, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়।

এ ছাড়া আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২–এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিকেল–সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায়, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প–সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গায়, মোস্তমাঝি মোড় মোড়–সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগের আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় কোরবানির পশুর হাট বসবে।

Dhaka-4অন্যদিকে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। হাটগুলো হচ্ছে খিলক্ষেত বাজার–সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)–এর খালি জায়গা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গা, ঢাকা তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠ, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার–সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা–সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর–সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ–সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা, কাঁচকুড়া বাজার–সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট–সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল–সংলগ্ন খালি জায়গায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসছে।

জানতে চাইলে তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠের হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, এখনও হাট জমে উঠেনি। প্রচুর পরিমাণে গরু এসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব গরু এসেছে। মানুষ নিজ পছন্দ অনুযায়ী গরু এখান থেকে কিনে নিতে পারবেন এবং হাট সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গরুর হাটের প্রথম কয়েকদিন সাধারণত বিক্রি হয় না। কোরবারির ঈদের দুই দিন বা একদিন আগে বেশি বিক্রি হয়। রাজধানীতে অনেকেরই গরুর রাখার মতো জায়গা নেই। যার কারণে ঢাকায় ঈদের দুই-একদিন আগে গরু বিক্রি শুরু হয়। আর এই হাটে যারাই গরু কিনতে আসবেন বা আসছেন, তাদেরই কেউ গরু কিনে ঠকবে না; সবাই ন্যায্য মূল্যে গরু কিনতে পারবে।

এসএইচ/এমআর