আব্দুল হাকিম
২৩ মে ২০২৬, ০৭:২৩ এএম
# গরুটির ওজন ১৫০০ মণ, দাবি খামারির
# দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা
# গরুটির গলায় নেই কোনো দড়ি বা রশি
# গরুটি দেখতে লেগে থাকছে দর্শনার্থীদের জটলা
বাজারে ঢুকতেই দেখা গেল শত শত মানুষের ভিড়। কেউ মোবাইল ফোন উঁচু করে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও করছেন। অনেকে ভিড় ঠেলে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দূর থেকে কালো রঙের বিশাল এক গরুকে ঘিরে মানুষের এমন আগ্রহ দেখে কৌতূহল হওয়াই স্বাভাবিক। কাছে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির গরু। নাম ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। চকচকে কালো শরীর, উঁচু কাঁধ আর শান্ত চোখে দাঁড়িয়ে থাকা গরুটি যেন গাবতলীর পশুর হাটের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে এবার নানা জেলার ছোট-বড় গরুর সমাগম ঘটেছে। তবে শত শত গরুর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানি ব্রাহমা জাতের এই গরুটি। বিশাল দেহের কারণে দূর থেকেই তাকে চোখে পড়ে। হাটে আসা অনেকেই গরুটি না দেখে ফিরছেন না। কেউ পরিবার নিয়ে এসে দেখছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থেকে গরুটির ওজন, খাবার কিংবা দাম নিয়ে আলোচনা করছেন।
‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নিয়ে এসেছেন জামালপুরের খামারি মো. জাকারিয়া। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি গরু লালন-পালন করছেন। এবার কোরবানির হাটে তিনি এনেছেন মোট ৮০টি গরু। এর মধ্যে দুটি গরু অবশ্য ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ এখনো অবিক্রীত।
গরুটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড় সামলাতে মাঝে মধ্যেই খামারের কর্মীদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। কেউ খুব কাছে গিয়ে ছবি তুলতে চান, কেউ আবার গরুর গায়ে হাত বুলিয়ে দেখতে চান। শিশুদের মধ্যেও গরুটি নিয়ে আগ্রহ কম নয়। অনেকে বিস্ময় নিয়ে বলছেন, এত বড় গরু তারা আগে দেখেননি।
মো. জাকারিয়া ঢাকা মেইলকে জানান, গরুটি পাকিস্তানি ব্রাহমা জাতের। জন্মের পর থেকেই বিশেষ যত্নে এটি লালন-পালন করা হয়েছে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুটির পরিচর্যা করা হয়েছে। গরুটিকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। এর খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আলাদা গুরুত্ব দিতে হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ এর ওজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মণ। বিশাল আকৃতির কারণে হাটে আনার সময়ও আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। বড় ট্রাকে বিশেষ ব্যবস্থায় গরুটিকে জামালপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। যাত্রাপথে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য কয়েকজন কর্মী সবসময় সঙ্গে ছিলেন।
জাকারিয়া আরও জানান, বড় গরু পালন করতে ধৈর্য ও পরিশ্রম দুটোই প্রয়োজন। একদিনে এমন গরু তৈরি হয় না। বছরের পর বছর সময় দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যা আর ভালোবাসা না থাকলে সম্ভব না। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বড় গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকে শখ করে বড় গরু কিনতে চান। আবার কেউ সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও দেখেন। তবে বড় গরু পালন করতে খরচও অনেক বেশি।
গরুটির দাম ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তবে খামারি আকর্ষণ বাড়াতে লিখে রেখেছেন, দাম চাইছেন ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। অনেকেই দাম শুনে অবাক হচ্ছেন, আবার অনেকে বলছেন, এমন গরুর দাম একটু বেশি হবেই। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ক্রেতা গরুটি দেখতে এসেছেন। কেউ দরদামও করেছেন। তবে এখনো বিক্রি হয়নি।
হাটে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’-এর সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। ফলে হাটের বাইরেও গরুটিকে নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এটিকে ‘হাটের রাজা’ বলছেন, কেউ আবার ‘কালো দানব’ নামে ডাকছেন। তবে গরুটির শান্ত স্বভাব অনেককেই মুগ্ধ করেছে। এত বড় আকারের হলেও এটি খুব শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপরেও আবার গরুটির গলাই নেই কোনো দড়ি বা রশি।
গাবতলীর হাটে আসা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে অনেক বড় গরুর ছবি দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে এত বড় গরু এই প্রথম দেখলাম। বাচ্চাদের নিয়ে দেখতে এসেছি। ওরা খুব খুশি।
কলেজপড়ুয়া তরুণী সাদিয়া আক্তার বলেন, আমরা আসলে গরু কিনতে আসিনি। শুনলাম বিশাল একটা গরু এসেছে, তাই দেখতে এলাম। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি।
হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় আকৃতির গরু নিয়েও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বড় গরুর সঙ্গে ছবি তোলার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অনেকেই ভিডিও করে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে আপলোড করছেন।
গাবতলী পশুর হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছরই কিছু বড় গরু হাটে আনা হয়, যা মানুষের নজর কাড়ে। তবে এবার ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নিয়ে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। কারণ এর আকার, রঙ ও অন্য গরুগুলোর চেয়ে আলাদা।
সন্ধ্যা নামার পরও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’-এর সামনে মানুষের ভিড় কমেনি। আলো ঝলমলে হাটের মধ্যে বিশাল কালো গরুটি যেন আলাদা করেই নজর কাড়ছিল। কেউ ভিডিও কল করে দূরের স্বজনকে দেখাচ্ছেন, কেউ আবার বারবার ছবি তুলছেন।
খামারি জাকারিয়ার চোখে-মুখেও ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত ভালো দামেই গরুটি বিক্রি হবে।
এএইচ/জেবি