images

অর্থনীতি

কোরবানির চামড়ায় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মে ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

কোরবানির পশুর মাংসের পাশাপাশি চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ আরও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম)’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাজারমূল্য কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কোরবানির সময় দক্ষ জনবল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে চামড়ার গুণগত মান উন্নত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও স্বল্পমেয়াদি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার প্রয়োজনে সারা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

korbani

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদ্রাসায় দান করা হয়। তাই চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহসহ সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সঠিকভাবে চর্বি পরিষ্কার, লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআর