images

অর্থনীতি

‘অবাস্তব রাজস্ব ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

তিনি বলেন, পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বের হতে না পারায় অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনো চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেনি। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বর্তমান সরকারও অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারত।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবার কার্ড বা খাল খননের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।

সিপিডির এই ফেলো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই যদি এক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে, তাহলে তা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাবে না। এমনিতেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় পিছিয়ে রয়েছে। তাই নতুন করে বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আগে তা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সেটি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন ও মাহমুদা হাবীবা।

এছাড়া আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

এমআর/এএইচ