images

অর্থনীতি

নীতিগত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন: ডিসিসিআই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা। তারা বলছেন, এলডিসি উত্তরণের পর রফতানি খাতে বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন, এজন্য এখনই নীতিগত সহায়তা জরুরি।

শনিবার (১৬ মে) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বিনিয়োগে মন্থরতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান হ্রাসসহ একাধিক চাপে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো স্বল্পমেয়াদে বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে প্রতিফলন করতে পারছে না। এ প্রেক্ষাপটে ডিসিসিআই প্রণীত ইপিআই নীতিনির্ধারকদের জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার তথ্যঘাটতি পূরণে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইপিআই প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় ৭৬২ জন উত্তরদাতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যার মধ্যে উৎপাদন খাতের ৩৩০ জন এবং সেবা খাতের ৪৩২ জন প্রতিনিধি ছিলেন।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে সেবা খাতও চাপের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীলকরণ, এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণ, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, লাইসেন্সিং সেবা সহজীকরণ, ভ্যাট হার হ্রাস এবং বন্দর কার্যক্রম দ্রুত করার ওপর জোর দেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেন, ঢাকা কেন্দ্রিক গবেষণা জাতীয় অর্থনীতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না, তাই এটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তারা বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর রফতানি খাতে বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন, এজন্য এখনই নীতিগত সহায়তা জরুরি।

বক্তারা আরো বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ছাড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নীতিগত বাস্তবায়ন জোরদারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

সেমিনারে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এফএ