নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা। তারা বলছেন, এই সময়ে দুটি পে-স্কেল কার্যকরের যৌক্তিকতা থাকলেও একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।
শনিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নবম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মালেক।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও বেতন কাঠামোয় কার্যকর পরিবর্তন না আসায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আবদুল মালেক আরও বলেন, দ্রুত সচিব পর্যায়ের সুপারিশ চূড়ান্ত করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। বর্তমান বেতনে একটি পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন।
আশিকুল ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। অন্যথায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১১ জুন ঘোষিত জাতীয় বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন নেতারা।
সমাবেশে বিভিন্ন জেলা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এম/ক.ম