নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্য বৈচিত্র্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সাস্টেইনেবিলিটি এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি—সবকিছুই অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। তাই শিল্পে শক্তি সাশ্রয়, পানি পুনঃব্যবহার, সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প গত কয়েক দশকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করলেও এখনো রফতানি মূলত সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্পোর্টসওয়্যার, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যে দ্রুত অগ্রসর হতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম পুঁজিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাত দেশের শিল্পায়ন ও রফতানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনার দিগন্ত এখনো অনেক প্রসারিত।
সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানা পুনঃব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না। বরং শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথবা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিপবিল্ডিংসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনামুল হক খান, প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ড. মো. হাসিব উদ্দিন এবং তারেক আমিন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়ছার।
পরে খন্দকার বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির ইনোভেশন টেক্সটাইল এক্সচেঞ্জ প্লাটফর্মের উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এমআর/এএইচ