জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ মে ২০২৬, ১১:৫২ এএম
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা আবার চালু করতে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দিতে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের উদ্যোগ প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এ তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদে ঋণ দেবে, আর এর বিপরীতে সরকার প্রথম বছর ৫ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলের আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে সরকারের চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে।
নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ঋণ জালিয়াতি বা অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না। একইসঙ্গে যেসব কারখানা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে বন্ধ হয়েছে, কেবল সেগুলোই এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে নিট এফডিআই বেড়েছে ৩৯ শতাংশ
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বন্ধ কারখানার একটি প্রাথমিক তালিকা সংগ্রহ করেছে। খসড়া অনুযায়ী, অর্থায়নের আগে কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং অতীতে ঋণ তহবিল স্থানান্তর বা অনিয়মের অভিযোগ আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
এই তহবিল থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি এলসি খোলাসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধাও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে, যেখানে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত ১৯ সদস্যের একটি কমিটি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে।
এদিকে, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন একাধিক বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে এ সুবিধার বাইরে রাখা হবে বলে জানা গেছে। এসব গ্রুপের বিষয়ে চারটি সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করে আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ চলছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঋণ নিয়মিত থাকা বাধ্যতামূলক। তবে কারখানা পুনরায় চালুর স্বার্থে কিছু শর্ত শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.২৯ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য এ ধরনের তহবিল প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যদিও নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনে নিরুৎসাহিত করছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
টিএই/এমআই