images

অর্থনীতি

৫ ইসলামী ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থে প্রভিশন শিথিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০১ মে ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

দেশের একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) রাখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থ ফেরত না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে আর্থিক চাপে ছিল, নতুন এ সিদ্ধান্তে তা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন হবে না, ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক দুরবস্থার কারণে এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি সমন্বিত ইসলামী ব্যাংক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের কাছে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আটকে আছে। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের কাছেই প্রায় ৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা আটকে ছিল; আংশিক পরিশোধ হলেও এখনো প্রায় ৮ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

শুরুতে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) থেকে এসব আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট (বিআরডি) মত দেয় যে, এ ধরনের অর্থের ক্ষেত্রে প্রভিশন রাখার প্রয়োজন নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, আটকে থাকা এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সরাসরি অর্থ ফেরত পাবে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পেতে পারে। ফলে এই অর্থ সম্পূর্ণ ক্ষতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি কম।

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর শেয়ার বরাদ্দ বা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ অর্থ ফেরতের সম্ভাবনা থাকায় এ অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার যৌক্তিকতা নেই বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টিএই/আরআর