images

অর্থনীতি

বিদ্যুৎ সংকট উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে টেকসই ও সবুজ জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রদর্শনী ২০২৬-এ বক্তারা এসব বলেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণ এবং শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরির উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ প্রদর্শনী একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এ আয়োজন করেছে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে অংশ নিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থা এবং তরুণ উদ্ভাবকেরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। তবে ব্যবহৃত ব্যাটারির জীবনচক্র শেষে পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রদর্শনীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বাধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সিস্টেম, সৌর সমাধান এবং গ্রিডভিত্তিক উদ্ভাবন তুলে ধরছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আমদানিনির্ভর ব্যবস্থার উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন এখন জরুরি। কেন্দ্রভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসভিত্তিক বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান দিতে পারে।

প্রদর্শনীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, নীতিগত কাঠামো এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য মডেল তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তরের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমন্বিত সংলাপ তৈরি করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সেশন ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
 
এমআর/ক.ম