images

অর্থনীতি

একীভূত এসআইবিএলে ফিরতে সাবেক পাঁচ শেয়ারহোল্ডারের আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

একীভূত হওয়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)-এর মালিকানায় ফেরার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন ব্যাংকটির সাবেক পাঁচ শেয়ারহোল্ডার। 

একই সঙ্গে ব্যাংকটি পুনর্গঠনে আগামী আট বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেওয়া এ আবেদনে নেতৃত্ব দেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হক। 

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা মালিকানায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের পরিচালনায় গেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে নতুন মূলধন সংযোজন, পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কমাতে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ (ক) ধারার আওতায় এ আবেদন করা হয়েছে। এ ধারায় একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আগের মালিকদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত দিতে হবে।

এর আগে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। 

এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দেয়, যার মধ্যে এসআইবিএলের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা।

মালিকানায় ফেরার আবেদনকারী অন্য শেয়ারহোল্ডাররা হলেন, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হাকিম মো. ইউসূফ হারুন ভূঁইয়া, উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার আলহাজ সুলতান মাহমুদ চৌধূরী, সাবেক পরিচালক আফিয়া বেগম এবং শেয়ারহোল্ডার জাবেদুল আলম চৌধুরী।

আবেদনে আরও বলা হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে এসআইবিএলকে পৃথক করে স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ দিলে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা দ্রুত উন্নত করা সম্ভব হবে। 

পুনর্গঠনের জন্য দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ আট বছরের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা ৪ শতাংশ ব্যাংক রেটে প্রদান করা হলে ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনা সহজ হবে।

টিএই/এআরএম