images

অর্থনীতি

আদানির বন্ধ ইউনিট চালু, বাড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকেই আবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে আটটার দিকে বন্ধ ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হতে থাকে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে যে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গিয়েছিল।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, সেদিন দুই ইউনিট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১,৪৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে উৎপাদন এক ধাক্কায় কমে প্রায় সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে, যা জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করে।

পিডিবি ও আদানি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রুটির সময় ইউনিটটির একটি বিয়ারিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রকৌশলীরা দ্রুত ইউনিটটি বন্ধ করে দেন। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। এই বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

76342a3ba62802c9f5178a1d005543e8-67fe70142a938

২০২৩ সালের মার্চে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় এবং একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হয়।

এদিকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ আদানি গ্রুপের ৬৮৮ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাওনা দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তারা সতর্ক করেছে, দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

গত ১৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আদানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রণব আদানি এ বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তবে এ পাওনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পিডিবির দাবি, কয়লার দাম বেশি ধরে বিল করা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিষয়টি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে সালিশ পর্যায়ে রয়েছে। মোট দাবিকৃত ৬৮৮ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩৯৩ মিলিয়ন ডলারকে বিতর্কহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে আদানি গ্রুপ।

টিএই