নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এএম
দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের বাজারে দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। যার ফলে খুচরা বাজারে এসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ ও মাংসের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। কোন কোন বাজারে তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাঁসি প্রতি কেজি ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টাউন হল বাজার ছাড়াও, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাঁসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও, মাছের বাজারে সর্বনিম্ন দামে মিলছে পাঙাশ ও তেলাপিয়া। যা কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ তেলাপিয়া ছাড়া অন্যান্য মাছ ৪২০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। যা কয়েক সপ্তাহের দামের চেয়ে অনেক বেশি।
দাম বৃদ্ধি নিয়ে কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা তৌহিদুর রহমান জানান, সরকার ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ানোয় ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। আগে যে মাছ আনতে ৫ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেই মাছ আনতে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের আড়তে মাছ এনে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
টাউন হল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা মাছ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমাদের থেকে দাম বাড়িয়ে রাখায় আমরা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যার ফলে ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।
এদিকে, মাংস বিক্রেতারাও বাড়তি দাম নিয়ে একই ধরনের কথা বলছেন। তারা জানান, গরু ও ছাগল পরিবহন খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি খামারিদের খাদ্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে গরু ও ছাগল কিনতে হচ্ছে।
তবে, ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও বিভিন্ন অযুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে ব্যবসায়ীরা। যার ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী তুষার আলম বলেন, আগে সপ্তাহে দুদিন মাছ-মাংস কিনতাম। এখন একদিন কেনার চিন্তা করতে হয়। তাও বাজারে আসলে কিনতে হিমশিম খেতে হয়। এতদিন এক রকম বাজারদর থাকলেও এখন ব্যবসায়ীরা তেল সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ক্রেতারা বাধ্য হয়েই প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে। এত ব্যয়ের মধ্যে আমাদের আয় বাড়েনি। যার ফলে কপালে দুশ্চিন্তা এখন।
আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হতে পারে। আমরা আগে এখনকার চেয়ে কম দামে নিত্যপণ্য কিনে পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে পারতাম। এখন এমন ব্যয় বেড়েছে। যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাজারদর কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা জানেনা কেউ।
জ্বালানি তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একেএস/এআরএম