নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে সে অনুযায়ীই পণ্যের দামের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক সংকটে আমরা সবাই। যতটা কম ক্ষতি করে বাসের কম ভাড়া বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করবে সরকার। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের দামও সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সৃষ্ট অযাচিত ভীতি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সব দেশেই পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে যেন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কম পড়ে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পণ্যের মূল্যও পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বয় করা হতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সাম্প্রতিক ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, গত দুই মাসে সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এতে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব জনগণের ওপরও পড়তে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক বা ‘রেড জোন’-এ পৌঁছায়নি। সরকারের নেওয়া ঋণ জনগণের কল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করা হবে।
এদিকে রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নগরের আটটি নির্দিষ্ট স্থানে নৈশবাজার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকাও বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক দিক থেকেও নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের নববর্ষের আগেই এ বিষয়ে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।
সব মিলিয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি, অর্থনীতি, নগর ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কৃতি সবক্ষেত্রেই সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
এফএ