নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
আসন্ন জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে করের বোঝা আরোপ করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবা সহজীকরণে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা: প্রেক্ষিত বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে নেওয়া কিছু উচ্চব্যয়ের প্রকল্পের কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের জিডিপির আকার প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলার হলেও এখনো প্রায় ৭ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির সমপর্যায়ে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সম্ভাবনাময় খাতে নীতি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, উচ্চ সুদহার, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট বিনিয়োগের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির গতি পুনরুদ্ধার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে এমএসএমই খাতে সহায়তা বৃদ্ধি এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ জরুরি বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে বক্তারা কর ব্যবস্থার অটোমেশন, একক ভ্যাট হার নির্ধারণ, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সুদহার হ্রাসসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমআর/এআর