নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে এসএমই ও এমএসএমই খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের মোট অর্থনীতির বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে পরিচালিত হয় এবং সেখানে এসএমই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপী ‘এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন। মেলার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
মন্ত্রী জানান, এসএমই খাতের উন্নয়নে সম্প্রতি ৩০০ কোটি টাকার একটি ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৫টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে দুই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবদুল মুক্তাদির বলেন, এসএমই খাতের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব। এ খাতের উন্নয়নে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মেলার সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
আয়োজকরা জানান, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বছরের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশে বৈশাখ উদযাপনের সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সামিম আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
মেলায় ১৫০টিরও বেশি স্টলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত উদ্যোক্তারা হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষিজ প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হোমমেড খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।
আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে পহেলা বৈশাখ সকাল ৮টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে।
এমআর/ক.ম