images

অর্থনীতি

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান মূল্যসূচক দেড় শতাধিক পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনও বেড়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছিল। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয় এবং অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় বাজারে ক্রয়চাপ বেড়েছে।

তাঁদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

একটি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে মন্থরতা ছিল, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তা কাটতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে হলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আস্থার পরিবেশ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতির মতো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সূচকও বাজারের গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। এতে সূচকে বড় উত্থান হয়, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের লেনদেন শেষ হয় সব কটি মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে।

দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।

ভালো লভ্যাংশ দেওয়া (১০ শতাংশ বা তার বেশি) কোম্পানির মধ্যে ১৯১টির শেয়ারদাম বেড়েছে, কমেছে ১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। মাঝারি লভ্যাংশ (১০ শতাংশের কম) দেওয়া ৭৪টি কোম্পানির শেয়ারদাম বেড়েছে, কমেছে ২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টির।

‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০২টির শেয়ারদাম বেড়েছে, কমেছে ৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২টির। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির দাম বেড়েছে, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। কোনো ফান্ডের দাম কমেনি।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদাম বাড়ায় ডিএসইএক্স সূচক ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে উঠেছে।

ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের প্রভাব, দেশে দরিদ্র বাড়তে পারে ১২ লাখ

লেনদেনের শীর্ষে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যার ৪৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি ব্যাংকের ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে একমি পেস্টিসাইড, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, টেকনো ড্রাগস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং কেডিএস অ্যাকসেসরিজ।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

এআর