images

অর্থনীতি

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠার একমাত্র উপায় হলো বিকল্প শক্তির উৎসে গুরুত্ব দেওয়া।

তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সামগ্রী এবং ব্যাটারির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই খাতে বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে বেশি লাভজনক। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সরকারের ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালেই অর্জন করা সম্ভব।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা বায়ুদূষণ বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে মানুষের গড় আয়ু ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ আসে গ্যাস থেকে এবং ২৮ শতাংশ কয়লা থেকে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির প্রায় ৫৬ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন নেমে এসেছে সক্ষমতার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে। জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে বক্তারা বলেন, প্রতিবেশী ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মোট জ্বালানির প্রায় ৫১ শতাংশ এবং পাকিস্তানে তা প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সেখানে বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৫ শতাংশ, যা অত্যন্ত কম। তারা নবায়নযোগ্য খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

বক্তারা আরও বলেন, বেসরকারি খাতের ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দ্রুত জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন না করলে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রধান বক্তা এম জাকির হোসেন খান বলেন, কার্বন ট্যাক্স আরোপ করলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব। এছাড়া কার্বন ট্রেডিং এবং বিকল্প অর্থায়নের উৎস—যেমন দান, যাকাত ও সামাজিক তহবিল—সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বাণিজ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ভোজ্যতেল সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমদ। প্রধান বক্তা ছিলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসেন খান। সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এছাড়া সৌর বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ হারুন, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং মানবাধিকারকর্মী নূরুল হুদা চৌধুরীসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

এআর