ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্যোক্তারা এখন তাদের পণ্য বা সেবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বিশ্ববাজারে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। আমরা সেই লক্ষ্যে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং পলিসি তৈরি করতে কাজ করছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মিলনায়তনে আয়োজিত তিন দিনব্যপী ‘ন্যাশনাল ডেমো ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেহান আসিফ আসাদ এসব বলেন।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়িত ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিইআইইডি) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত স্টার্টআপ অ্যান্ড স্কেলআপ কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, নেটওয়ার্কিং, রেসিডেন্সিয়াল বুটক্যাম্প এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে ব্যবসা উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় দেশের ছয়টি বিভাগ থেকে এক হাজার ৯১ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের নিয়ে ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই ন্যাশনাল ডেমো ডে আয়োজন করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী আয়োজনে আইটি ও আইটিইএস, রিটেইল ও ই-কমার্স, এসডিজি ইমপ্যাক্ট, শিক্ষা ও শিল্প-সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও টেক্সটাইল, খাদ্য ও কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবা এই ৭টি সেক্টরের উদ্যোক্তারা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের পণ্য ও ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ২০০ জন উদ্যোক্তা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করছেন।
ডিইআইইডি প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশে আইডিয়ার অভাব নেই, অভাবটা আসলে মাইন্ডসেটের। আমাদের দেশে স্টার্টআপ কালচারটা এখনও ঠিকভাবে গড়ে উঠছে না। কিন্তু যেদিন আমরা ছোট শুরু করে বড় ভাবতে শিখবো, সেদিনই আমাদের উদ্যোগগুলো স্কেল করে দেশকেই বদলে দেবে।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা এই খাতকে টেকসই ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে পারি।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ হোসনে ফেরদৌস সুমি, ডিইআইইডি প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘স্টার্টআপ পলিসি, বিনিয়োগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ক.ম/