images

অর্থনীতি

জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার সেবাসমূহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল কার্যক্রম সচল রাখতে এসব সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং ডাটা সেন্টারগুলো এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। এসব সেবা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে যদি টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা, ই-কমার্স এবং সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সাধারণ গ্রাহকরাও ভোগান্তির মুখে পড়বেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টাওয়ার, নেটওয়ার্ক স্টেশন ও ডাটা সেন্টারগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা নিয়মিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা হিসেবে বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় টেলিযোগাযোগ ও ডাটা সেন্টার সেবা সচল রাখতে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে সংগঠনটি। সুপারিশগুলো হলো— টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করা; মোবাইল টাওয়ার, এক্সচেঞ্জ ও ডাটা সেন্টারে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; বিকল্প জ্বালানি যেমন সৌর শক্তি ও ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদান; জ্বালানি সরবরাহে বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা; এবং নিয়মিত মনিটরিং ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা বিঘ্ন রোধ করা।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার সেবাগুলো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমআর/এফএ