images

অর্থনীতি

তেল নিয়ে ‘লোকচুরি’ ঠেকাতে সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে ‘লোকচুরি’ এবং কৃত্রিম সংকট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পর্যাপ্ত মজুদের তথ্য দিলেও মাঠপর্যায়ে অনেক পেট্রোল পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু পেট্রোল পাম্প মালিকের অনিয়মের কারণে সরকার ও বিপিসির পর্যাপ্ত মজুদের তথ্য থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকরা পাম্পে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি মালিক ও চালকদের সারাদিন অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, অতীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ বিপণন ও চুরি ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে খোলা ড্রামে তেল মজুদ, অবৈধভাবে তেল বিক্রি এবং পরিবহন থেকে পাইপ সংযোগের মাধ্যমে তেল চুরির মতো ঘটনাও বেড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকার সরকারি ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি বাড়ছে।

ক্যাব নেতারা বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোন কোন পাম্পে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে এবং অযথা পাম্পে ঘোরাঘুরি কমে আসবে। তারা স্থানীয় পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ তথ্য প্রচারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, তেল চুরি, সিন্ডিকেট ও মজুদদারি ঠেকাতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, পাম্পভিত্তিক মজুদ ও সরবরাহের তথ্য নিয়মিতভাবে জনসাধারণকে জানানো গেলে বিদ্যমান বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং এ বিষয়ে নাগরিক পর্যায়ে নজরদারি জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমআর/এআর