জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
স্থিতিশীল আর্থিক সূচক ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে এসবিএসি ব্যাংক। ১৪তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং মোট সম্পদে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস.এম. মঈনুল কবীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ‘এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি.’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সারা দেশে ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট ও ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি ১০টি শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবাও চালু রয়েছে।
ব্যাংকের আর্থিক সূচক তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে মোট আমানত ১৫ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণ ও অগ্রিম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার (৮৭ শতাংশ) নিচে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, ঋণ বিতরণে ব্যাংকটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ সময় ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে বেশি। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের হারও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়।
চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকদের আস্থা অর্জনই আমাদের প্রধান শক্তি। আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু নিজেদের উন্নয়ন নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি।’ তিনি কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম. মঈনুল কবীর বলেন, ‘আমরা গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করছি। তারল্য পরিস্থিতি ভালো থাকায় কোনো ধরনের পরিশোধে সমস্যায় পড়তে হয়নি। আমাদের সূচকগুলো স্থিতিশীল থাকায় টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
মঈনুল কবীর জানান, ব্যাংকটি কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মোট বিনিয়োগের প্রায় ৩৬ শতাংশই এ খাতে রয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স কার্যক্রমেও ব্যাংকটির অংশগ্রহণ বাড়ছে।
টিএই/ক.ম