images

অর্থনীতি

আইএলও-তে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দেশগুলো।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ প্রতিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সংস্থাটির সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধি একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে একটি পাঁচ বছর মেয়াদী শ্রমখাত সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওর গভর্নিং বডিতে দাখিল করে। দাখিলকৃত এ রোডম্যাপে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে গত পাঁচ বছরে গভর্নিং বডির আটটি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বর্তমান সরকার নবম অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করে। এ সময় মামলাটির আলোচনায় অংশ নিয়ে সব দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন।

মামলা সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অংশগ্রহণ করেন। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও শ্রম সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্থাটির ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ ও মালিকপক্ষ শ্রম খাত উন্নয়নে নতুন সরকারের সুদৃঢ় আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কার অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।

আলোচনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত সকল গভর্নিং বডি সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ হতে উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার রয়েছে বলে জানান।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের নির্বাচিত সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ ম্যান্ডেটের মূলে রয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার যেখানে নাগরিক অধিকার বিশেষত মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাক-স্বাধীনতা, ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যোগ্যতা বৃদ্ধি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে আইএলওর Decent Work Agenda সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ কে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে বলে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত সকলকে জানান। সরকার এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থান নির্ভর উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহতকরণে, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা এক্ষেত্রে আইএলও সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনায় ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যবিশিষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ, নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন, উজবেকিস্তানসহ মোট ১৯টি দেশ, মালিকপক্ষ ও দুটি আঞ্চলিক গ্রুপ শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে। সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ, ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ ও মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি, পরিদর্শক নিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এমআইকে/এফএ