নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। প্রতিদিনই বাড়ছে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন হাজারো মানুষ। এতে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঢাকা। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। বিক্রেতারা বেশিরভাগ সময়ই বসে থাকছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। যেখানে সাধারণ সময়ে বাজারে হাঁটার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এখন অনেকটাই স্বস্তিতে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।
ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছেন কম দামে সবজি বিক্রি করতে। ফলে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বর্তমানে বাজারে পটল ও করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ছিল। শসা ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় ছিল। টমেটো ৩০ টাকা, মটরসুটি ৭০ টাকা, সিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু এসবই নয়, অন্যান্য সবজির দামও কমেছে। কাঁচামরিচ, আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামেও কিছুটা কমতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সব পণ্যের দাম সমান হারে কমেনি, তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তির একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা অনেক কমে গেছে। এতে প্রতিদিনের বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। সবজি দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দিলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই দ্রুত বিক্রি করতে দাম কমাতে হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রায়হান বলেন, আগে সকালে আনা সবজি দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। এখন সারাদিন বসে থাকলেও অনেক পণ্য অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, এমন দাম কমার খবর অনেকটাই স্বস্তির। বিশেষ করে যারা এখনো ঢাকায় রয়েছেন, তারা তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারছেন। তবে তাদের মতে, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

একজন ক্রেতা বলেন, কয়েকদিন আগেও বাজারে এসে বেশি টাকা খরচ করতে হতো। এখন কিছুটা কমে গেছে, এতে ভালোই লাগছে। তবে ঈদের পর আবার দাম বাড়বে বলে মনে হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের আগে এমন চিত্র দেখা যায়। রাজধানীতে জনসংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে চাহিদা কমে যায়। চাহিদা কমে গেলে সরবরাহের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় দামও কিছুটা কমে আসে।
তবে তারা এও জানান, ঈদের পরপরই মানুষ আবার শহরে ফিরতে শুরু করলে বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়বে। তখন আবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সবজির দামও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ঈদের আগ মুহূর্তে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এক ধরনের স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও তা যে সাময়িক, সে বিষয়টি পরিষ্কার। তবুও এই সময়টুকুতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন, যা তাদের জন্য স্বস্তির।
এমআর/এএইচ