নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো এবং বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ৩৭৮ কন্টেইনার অখালাসকৃত পণ্য নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এসব পণ্য ই-অকশন (E-Auction) পদ্ধতিতে বিক্রি করা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানো, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং বন্দরের ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে অখালাসকৃত পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্চ মাসে মোট ৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর জানায়, বিশেষ আদেশ নং-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী ই-অকশন-২/২০২৬ এর আওতায় ৪৯টি লটে মোট ১৮০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেমস এবং গাড়ির যন্ত্রাংশসহ নানা সামগ্রী। উল্লেখ্য, এসব পণ্যচালানের ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
এ ছাড়া স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুযায়ী ই-অকশন-৩/২০২৬ এর আওতায় ৭৪টি লটে মোট ১৯৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ, ক্রাফট লাইনার পেপারসহ অন্যান্য পণ্য।
নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ নিলাম পরিচালনা করা হবে। আগ্রহী বিডারদের জন্য পুরো মার্চ মাসজুড়ে সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং অনলাইনে বিড করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে অনলাইনে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ই-অকশন-২/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স আগামী ৩১ মার্চ দুপুর ২টায় এবং ই-অকশন-৩/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৮ এপ্রিল দুপুর ২টায় খোলা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত রাখতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এমআর/এফএ