images

অর্থনীতি

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, দ্রুত আমদানির অনুমতি চায় পাম্প মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ এএম

দেশে জ্বালানি তেলের চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, রেশনিং পদ্ধতির কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে পাম্প মালিক ও সাধারণ ভোক্তা উভয়েই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সরকারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাস্তবতা বিবর্জিত রেশনিং পদ্ধতির কারণে নতুন সরকার জনগণের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছে। অভিযোগ করা হয়, বিপিসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জ্বালানি সচিবকে ভুল তথ্য দিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে সারা দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।

সংগঠনটির দাবি, সরকারি ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রেখে রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা তাদের ভাষায় ‘প্রতারণামূলক কাজ’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের অনেক ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল সংরক্ষণের জায়গা নেই। অন্যদিকে তেলবাহী জাহাজ জেটিতে অপেক্ষায় থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পৌঁছাচ্ছে না। ফলে তেল আসার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে ডিলাররা চরম সংকটে রয়েছেন। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্যাংকলরি ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডিপোতে এসে মাত্র চার থেকে ছয় হাজার লিটার তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত অভিন্ন মূল্যে তেল বিক্রি করতে হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ সমন্বয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না পাম্প মালিকরা।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, গত ১০ থেকে ১২ দিনের এই ঘাটতি আগামী এক মাসেও পূরণ করা কঠিন হতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

পাম্প মালিকদের সংগঠনটি প্রস্তাব দিয়েছে, সরকার যদি দ্রুত পর্যাপ্ত তেল আমদানি করতে না পারে বা এতে সময় লাগে, তাহলে যেসব ব্যবসায়ীর সক্ষমতা রয়েছে তাদের মাধ্যমে আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আমদানিকৃত তেল বিপিসিকে সরবরাহ করা হলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হবে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।


এমআর/এফএ