images

অর্থনীতি

পোল্ট্রিতে করপোরেট আধিপত্য: প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় ৬ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

দেশের পোলট্রি শিল্পে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। অস্বাভাবিক হারে বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিম ও মুরগির কম বিক্রয়মূল্যের কারণে গত সাত মাসে খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে অনেক খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি সংগঠনটির।  

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বিপিএ। এ সময় পোলট্রি খাতে করপোরেট আধিপত্য বন্ধসহ প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় ৬ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে পোলট্রি শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এবং এ খাতের সঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। কিন্তু বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণের কারণে পুরো শিল্পই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মুরগির বাচ্চার দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। যেখানে একটি বাচ্চার স্বাভাবিক দাম প্রায় ৩০ টাকা হওয়া উচিত, সেখানে বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এর ফলে বাজারে মুরগির দাম বাড়লেও প্রান্তিক খামারিরা লাভবান হচ্ছেন না। বরং কোম্পানিগুলো বাজারে মুরগি আসার প্রায় ৩০ দিন আগেই আগাম মুনাফা নিশ্চিত করছে।

খামারিদের অভিযোগ, কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু সদস্য এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তা ও ক্ষুদ্র উৎপাদক উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংকট উত্তরণে সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রান্তিক খামারিদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান, সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা, পোলট্রি খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি ও প্রান্তিক খামারিদের জন্য সুরক্ষামূলক নীতিমালা প্রণয়ন। 

বক্তারা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বাজারে ডিম ও মুরগির দামের ওপর। তাই প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তারা।

এমআর/ক.ম