images

অর্থনীতি

ট্যানারি মোড়ে জুতার দোকানে বিক্রি এখনো ধীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর ট্যানারি মোড়ে চামড়ার জুতা কিনতে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দোকানে ক্রেতারা পছন্দের জুতা দেখছেন, কেউ কেউ কিনছেনও। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা জমে ওঠেনি। তাদের আশা, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বাজারে ক্রেতার ভিড় ও বিক্রি বাড়বে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্যানারি মোড়ের চামড়াজাত পণ্যের দোকানগুলো ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে পুরো ট্যানারি মোড় এলাকা আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা দোকানগুলোতে ঘুরে ঘুরে জুতা দেখছেন। প্রায় প্রতিটি দোকানেই একজন-দুজন ক্রেতাকে পছন্দের জুতা দেখতে দেখা গেছে। কেউ কেউ কিনছেন, আবার কেউ দেখেই চলে যাচ্ছেন।

সালমা’স ফুটওয়্যারের প্রোপ্রাইটর আরমান হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি একটু কম। আশা করি, দুই-এক দিনের মধ্যে বিক্রি বাড়বে। গত বছর পণ্যের যে দাম ছিল, এ বছরও একই দাম রাখা হয়েছে।

29

এস অ্যান্ড এস ট্যানারির প্রোপ্রাইটর রাজুর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, এবার বেচাকেনা তুলনামূলক কম হলেও একে খুব খারাপ বলা যাবে না। কারণ নির্বাচনের সময় ঢাকায় কর্মরত অনেকেই দীর্ঘ ছুটি পেয়েছিলেন। তারা বাড়ি গিয়ে কিছু অতিরিক্ত খরচ করেছেন, যা স্বাভাবিক। এছাড়া এবার রমজানও মাসের মাঝামাঝি শুরু হয়েছে। অনেকেই হয়তো এখনো বেতন-বোনাস পাননি। এসব কারণেই এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে ক্রেতার আনাগোনা বাড়তে পারে।

গত বছরের তুলনায় চামড়াজাত পণ্যের দাম কতটা বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দাম বাড়াইনি। গত বছর যে দামে পণ্য বিক্রি করেছি, এ বছরও সেই দামই রাখা হয়েছে।

লালবাগে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন কামাল মিয়া। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছেলে ও নিজের জন্য চামড়ার জুতা কিনতে ট্যানারি মোড়ে এসেছেন। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি বরাবরই এই মার্কেট থেকে জুতা কিনি। কারণ এখানে ভালো মানের চামড়ার জুতা ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

শ্যামলী থেকে বন্ধুর সঙ্গে জুতা কিনতে এসেছেন আব্দুল বারী। তিনি বলেন, বন্ধুদের মুখে অনেক শুনেছি ট্যানারি মোড়ে কম দামে ভালো মানের চামড়ার জুতা পাওয়া যায়। তাই ঈদের জুতা কিনতে আজ এখানে এসেছি। তবে আমি ছাত্র। এখানে এসে যে জুতাগুলো পছন্দ হয়েছে, সেগুলোর দাম ১৫০০ টাকার নিচে নয়। তবে বাইরের মার্কেটের তুলনায় জুতার মান ভালো।

কয়েকজন দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে সব ধরনের জুতা পাওয়া যায়। স্লিপারের দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার মধ্যে। লোফার ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ ১৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়। এসব পণ্য চামড়া দিয়ে তৈরি। বেশি দামে কিনলে উন্নত মানের চামড়ার জুতা পাওয়া যায়, আর কম দামে তুলনামূলক সাধারণ মানের চামড়ার জুতা পাওয়া যায়। দোকান মালিকরা জানান, তাদের অধিকাংশেরই চামড়ার পণ্য তৈরির নিজস্ব কারখানা রয়েছে।

এমএইচএইচ/জেবি