মাহফুজুর রহমান
১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে জুতার দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। নতুন ডিজাইন ও নানা দামের জুতা কিনতে প্রতিদিন ভিড় করছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এলাকার ছোট-বড় প্রায় সব জুতার দোকান। নতুন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই আসছেন এখানে। ফলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিক্রির পরিমাণ।
এলিফ্যান্ট রোডে বিভিন্ন ধরনের জুতার দোকান থাকায় ক্রেতাদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি কেনাকাটার স্থান। এখানে দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় কারখানায় তৈরি নানা ধরনের জুতা পাওয়া যায়। স্নিকার্স, লোফার, স্যান্ডেল, ফরমাল জুতা থেকে শুরু করে শিশুদের রঙিন জুতাও রয়েছে। ফলে এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের জুতা পাওয়া যাওয়ায় অনেকেই এই এলাকায় কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। দোকানগুলোতে একের পর এক ক্রেতা জুতা দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন এবং পছন্দের জুতা কিনছেন। অনেক দোকানে একসঙ্গে কয়েকজন বিক্রেতাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
জুতা কিনতে আসা ক্রেতা রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের সময় নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন জুতা না হলে সাজটা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই অফিস শেষ করে সরাসরি এলিফ্যান্ট রোডে এসেছি। এখানে বিভিন্ন দামের অনেক জুতা পাওয়া যায়, তাই পছন্দ করতেও সুবিধা হয়।’

আরেক ক্রেতা তানভীর হাসান বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য জুতা কিনতে এসেছি, এক জায়গায় অনেক দোকান থাকায় কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখে নিজের পছন্দমতো জুতা বেছে নেওয়া যায়। তবে আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
ক্রেতা সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘মেয়েদের জুতার অনেক সুন্দর ডিজাইন এখানে পাওয়া যায়। বিশেষ করে স্যান্ডেল আর হিল জুতার নতুন মডেলগুলো ভালো লাগছে। কয়েকটি দোকান ঘুরে অবশেষে নিজের জন্য একটি জুতা কিনেছি।’
নাজমা আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততার কারণে আগে বাজারে আসতে পারিনি। তাই এখন ভিড়ের মধ্যেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তবে দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জুতা থাকায় পছন্দের জুতা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়েছে।’
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়টিই তাদের ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই কয়েক সপ্তাহের বিক্রির ওপর অনেকটা নির্ভর করে সারা বছরের আয়।
জুতা বিক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘রমজান শুরুর পর থেকেই ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। তবে গত কয়েক দিনে ভিড় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দোকানে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।’
আরেক বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, ‘ক্রেতারা এখন বেশি খোঁজ করছেন আরামদায়ক জুতার। বিশেষ করে স্নিকার্স ও সফট সোলের স্যান্ডেলের চাহিদা বেশি। তরুণদের মধ্যে স্নিকার্সের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’
দোকানি কামাল হোসেন বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে তারা নতুন নতুন ডিজাইনের জুতা দোকানে তুলেছি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মডেলের জুতা এনেছি। অনেকেই পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা খুঁজছেন।’
বিক্রেতাদের মতে, ঈদের আগের সপ্তাহে বাজারের ভিড় আরও কয়েক গুণ বাড়বে। তখন প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের জুতার বাজার এখন ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে এবং মৌসুমটি ভালোভাবেই কাটবে।
এম/জেবি