images

অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে কৌশলগত পদক্ষেপ চায় সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন।

সংস্থাটির মতে, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটটি নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং বিনিয়োগের নিম্ন প্রবণতার মতো নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং আর্থিক খাতেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়াও অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পরিকল্পিত নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক নানা অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

সিপিডির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি-এই চারটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।’

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই এবং শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

সিপিডি জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। 

এএইচ/এমআই