জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
জ্বালানি তেল নাই, তাই পাম্প বন্ধ। বাইরে তেল নিতে মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকারের জটলা। অন্যদিকে পুলিশ পরিচয় দিলেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে পাম্পের ভেতরে, মিলছে তেলও। এমন মুহূর্তে সেখানে হাজির দুই সাংবাদিক। তাদের প্রশ্নের মুখে পরে সবার জন্য পাম্প খুলে দিলো কর্তৃপক্ষ।
তবে সরকার নির্ধারিত দুই লিটার তেল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকার তেল। প্রাইভেটকারের জন্য দিচ্ছে গাড়ি বুঝে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগে রহমান ট্রেডার্সের পাম্পে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানতে চাইলে পাম্পের ম্যানেজার ঢাকা মেইলের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে সহকারী ম্যানেজার ফজলে রাব্বি ঢাকা মেইলকে বলেন, শুক্রবার ও শনিবার পাম্পের তেল সংগ্রহ করা যায় না। এ কারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।
তেল নাই, এখন দিচ্ছেন কীভাবে— এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে কাজে ব্যস্ততা দেখান ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, তেলের সংকট আছে। কিন্তু মানবিক বিষয়ের কারণে এখন ১০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল তেল আসবে। তখন গ্রাহকরা যতখুশি নিতে পারবেন।
তবে ১০০ টাকার তেলে কী হবে- প্রশ্ন বাইকারদের। দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে সাদমান শাহরিয়ার নামে এক বাইকার বলেন, মার্কেটিংয়ের চাকরি করি। ১০০ টাকার তেলে আমার কিছুই হবে না।
‘দুইটা পাম্প ঘুরে এলাম। আবার তেল খুঁজতেই এই ১০০ টাকার তেল শেষ হয়ে যাবে’, ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
হাসান আলি নামে আরেক বাইকার বলেন, ‘পাম্পগুলো নাটক শুরু করছে। তখন বললো, তেল নাই। কোনোভাবে আজ নেওয়া সম্ভব না। কিন্তু এখন কীভাবে তেল দিচ্ছে? তারা চাইলে দুই লিটার বা তার বেশিও দিতে পারে।’
পুলিশের জন্য সবসময় খোলা
তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরচালক ঢাকামেইলের এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, পুলিশের জন্য এই পাম্পটি সমসময় চালু থাকে। তাদের ভাষ্য, যতকিছুই হোক, পুলিশ পরিচয় দিলে তেল মিলে যায়। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে টালবাহানা করা হয়।
‘আজকেও তেল দিতো না। সাংবাদিকরা না এলে বন্ধ করেই রাখতো’, বলেন এক বাইকার।
তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি পাম্প কর্তৃপক্ষ। পাম্পের সহকারী ম্যানেজার ফজলে রাব্বি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বললেও পুলিশকে তেল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
এএম/ক.ম