জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেবল উৎপাদননির্ভর খাত হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই শিল্পকে ‘ইনোভেশন নেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম (বিবিএফ)।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর দেশের পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দায়িত্বশীল, টেকসই ও উদ্ভাবনভিত্তিক খাত হিসেবে তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সমঝোতা স্মারকে বিজিএমইএর পক্ষে সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং বিবিএফের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম (শুভ), প্রচার ও প্রকাশনা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড ইভেন্ট সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় পোশাক শিল্পকে ‘ফ্যাক্টরি নেশন’ থেকে ‘ইনোভেশন নেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচার ও ব্র্যান্ডিং কৌশল প্রণয়ন করা হবে। এ ছাড়া তরুণ উদ্ভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বিজিএমইএতে একটি বিশেষ ‘ইনোভেশন ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে শিল্পে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে একটি ‘লিডারশিপ একাডেমি’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পোশাক শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করতে ‘ইউথ ফেস্ট’ ও ‘ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দেশের গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিবিএফের বিভিন্ন সামিট ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিজিএমইএ সদস্যদের আধুনিক ব্র্যান্ডিং, রিটেইল ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হবে। সমঝোতা অনুযায়ী, বিবিএফ কৌশলগত ব্র্যান্ডিং পরামর্শ ও জ্ঞানভিত্তিক সহায়তা দেবে এবং বিজিএমইএ শিল্প-সংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে সহযোগিতা করবে।
দুই পক্ষের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিসরে উদ্ভাবননির্ভর একটি শক্তিশালী পোশাক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে।
টিএই/এএস