নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নতুন সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন: স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে নতুন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ কে আজাদ বলেন, বর্তমানে গড় ঋণখেলাপির হার ৩৬ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে এটি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক্সিট পলিসি দিয়েছে, সেটিকে তিনি সমর্থন জানান। তবে যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেননি, তাদের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে ব্যাংক খাত থেকে ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ ঋণ নিচ্ছে, অথচ বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ কে আজাদ অভিযোগ করেন, সরকারের মোট ঋণের প্রায় ৫৮ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে, যা উৎপাদনশীল নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজস্ব আদায় কমেছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছয় মাসে ৩৬ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। বিনিয়োগ, ভ্যাট ও আয়কর আদায় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এনার্জি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাজার হাজার গ্যাস সংযোগের আবেদন ঝুলে আছে। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চুলার গ্যাস বন্ধ করে এলপিজিতে স্থানান্তর করলে সেই গ্যাস শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব। তার দাবি, প্রায় ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই লাইনের মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে। গুড গভর্ন্যান্স ও আইনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া সংকট সমাধান সম্ভব নয়।
সরকারি ব্যয় কমাতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়ে এ কে আজাদ বলেন, এতগুলো মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, সাধারণ মানুষের কষ্টের সময়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো বিনিয়োগে ব্যাপক প্রণোদনা দিচ্ছে। সেখানে ক্যাপিটাল মেশিনারির জন্য উচ্চ হারে সহায়তা, নারী কর্মী নিয়োগে ভর্তুকি এবং ইউটিলিটি বিলেও ছাড় দেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে উচ্চ সুদের হার, গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যে শিল্প পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ কে আজাদ বলেন, কেবল ব্যাংক সুদ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে, শিল্পকারখানা সচল করতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তার মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব, জিডিপি ও কর্মসংস্থান সবই বাড়বে, যা অর্থনীতিকে শক্ত ভিত দেবে।
এএইচ/এমআই