জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
রফতানিমুখী শিল্পকারখানাগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে সহায়তা দিতে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের সময়মতো বেতন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জারি করা এক সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধার আওতায় পাওয়া ঋণ কেবল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধেই ব্যবহার করা যাবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে এ মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে। তবে ঋণের পরিমাণ কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের অন্তত ৮০ শতাংশ রফতানি করে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, তারাই এ সুবিধা পাবে। ‘সচল রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)–এর প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে।
ঋণের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাংকগুলো শ্রমিক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি বেতনের অর্থ জমা দেবে। তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সমান মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। নিয়মিত সুদ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
টিএই/ক.ম