নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলা, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়া, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ শতাংশেরও বেশি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৬২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
রোববার তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল এবং এর জবাবে ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। খামেনির হত্যার একদিন পর এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম চলতি বছর ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সবচেয়ে ভালো সূচক সম্ভবত স্বর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করায় আমাদের স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়বে; এমনটাই প্রত্যাশা করা উচিত।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এই উত্থানের পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী ক্রয়, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড তহবিলে বড় বিনিয়োগ এবং মার্কিন মুদ্রানীতি শিথিল হওয়ার প্রত্যাশা।
গত সপ্তাহে জেপি মরগান এবং ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারের স্তরের দিকে উঠতে পারে। জেপি মরগান পূর্বাভাস দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের শক্ত চাহিদার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের পণ্যমূল্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। বিনিয়োগকারীরা এ সপ্তাহে শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক-যেমন এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্বের দাবি এবং অ-কৃষি বেতন প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করবেন।
অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারিতে মাসিক বৃদ্ধির পর স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯৪ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৭২ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যেকোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে ১ মার্চ থেকে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এফএ