নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে আমদানি বিল অব এন্ট্রিতে কটন সুতার কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে কাস্টম হাউসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত থেকে। এর মধ্যে নিট গার্মেন্টস খাতের অবদান প্রায় ৫৫ শতাংশ। সরকার আশির দশক থেকে রফতানি খাতকে উৎসাহিত করতে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কম দামে সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় উৎপাদনকারীরা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছেন।
দেশীয় উদ্যোক্তারা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলেছেন, যা দেশের সুতা ও কাপড়ের বড় অংশের চাহিদা পূরণ করছে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শিল্পবান্ধব নীতি ও প্রণোদনার কারণে তারা তুলনামূলক কম দামে সুতা রফতানি করছে, ফলে দেশীয় উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে স্থানীয় সুতার বিক্রি কমে গিয়ে কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বড় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এ অবস্থায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিট গার্মেন্টস খাত আমদানিকৃত সুতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, লিড টাইম বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হতে পারে। এসব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এমআর/এফএ