জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
দেশে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ রেমিট্যান্সের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রবাসীরা প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা এক বছরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড।
এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ।
এছাড়া গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩২৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
ডিসেম্বর মাসের রেমিট্যান্স আগের বছরের একই মাসের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২৬৪ কোটি ডলার। এক বছর পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রধান অবদান রাখে রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় এবং বিদেশি ঋণ। তবে এর মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, কারণ এটি সরাসরি ডলার আনে, কোনো খরচ বা ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব ছাড়াই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবা সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ শক্তিশালী হয়েছে এবং দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
২০২৫ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ২১৮ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারি-২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩৩০ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে ২৯৭ কোটি, জুন মাসে ২৮২ কোটি, জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৪৮ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি, নভেম্বরে ২৮৯ কোটি এবং সবশেষ ডিসেম্বর মাসে এসেছে ৩২৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে এসেছিল ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার, ২০২২ সালে আসে ২ হাজার ১২৯ কোটি, ২০২১ সালে ছিল ২ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। ২০২০ সালে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে আসে এক হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৫৫ কোটি ডলার। ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এর আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।
এছাড়াও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এসেছে এক হাজার ৬২৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) রেমিট্যান্স এসেছিল তিন হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রারর রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রার যার পরিমাণ দুই লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। রেমিট্যান্স অংক এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আহরণ।
এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন ছিল। ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
টিএই/ক.ম