images

অর্থনীতি

‘রেমিট্যান্সের বাইরে বিনিয়োগে প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান শুধু রেমিট্যান্সে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন-২০২৫ এর উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রবাসী শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে। তবে সময় এসেছে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যদি দেশে শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাখাতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে যাবে এবং অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে।

ভারতের উদাহরণ টেনে তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের দক্ষতা ও বৈশ্বিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভারত অর্থনৈতিকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছানো গেছে, যাকে ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এই পর্যায়ে প্রবাসীরা চাইলেই দেশের উন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারেন।

দেশের তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেক তরুণ অবৈধ পথে ইউরোপমুখী হচ্ছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগের মাধ্যমে যদি শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাখাতে সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জাপানসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হবে।

কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণে আর্থিক খাতের সংস্কার, নীতিগত সহায়তা এবং সহজতর ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনব্যাপী এই কনভেনশনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ইস্যুতে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দেশ ও প্রবাসের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা কি-নোট স্পিকার ও আলোচক হিসেবে অংশ নেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এনআরবি গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রদান করা হয়।

এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম বলেন, দেশ ও প্রবাসের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কনভেনশনে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী উদ্যোক্তারা বলেন, নীতিগত সহায়তা, স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে তারা দেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের একজন জাতীয় নেতা। গণতন্ত্র রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সময় অতিথিরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক প্রকাশ করেন।
 
সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (বিডা)-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম খান এবং উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল হাসান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি আজিজ আহমেদ, আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গিয়াস আহমেদ, গ্লোবাল এনআরবি চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক হেমি হোসেন, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ রুবেল, জাপান-বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. শেখ আলিমুজ্জামান এবং দুবাই রিয়েল এস্টেটের সিইও মমিনুল হকসহ বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশ থেকে আগত প্রায় এক হাজার প্রবাসী উদ্যোক্তা, শিল্পপতি, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও আইটি পেশাজীবীরা অংশ নেন।

এএইচ/এফএ