০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৭ এএম
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির উদ্বোধন করবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য সুসংবাদ। ব্যাংকটি সঠিকভাবে পরিচালনায় একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। মূল লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: আসছে ৫০০ টাকার নতুন নোট
রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে ব্যাংকটির জন্য প্রস্তুত করা প্রধান কার্যালয় গতকাল পরিদর্শন করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
জানা গেছে, শিগগিরই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
গত রোববার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ পর্ষদ সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সোমবার ব্যাংকটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসেও নিবন্ধিত হয়েছে।
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ব্যাংক পাঁচটি হলো- এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
জানা গেছে, একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে একটি স্কিম ঘোষণা করা হবে। এতে আমানতকারীরা কীভাবে টাকা তুলতে পারবেন, তার প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকবে। শুরুতে আমানত বীমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। বাকি টাকা ধাপে ধাপে তোলা যাবে। কী উপায়ে টাকা উত্তোলন করা যাবে এবং কী হারে মুনাফা দেওয়া হবে- এ সংক্রান্ত তথ্যও স্কিমে থাকবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা গত সোমবার ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ-চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে মূলধন হিসেবে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসছে আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে।
ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন সরকারি তহবিল এই ব্যাংকে রাখা হবে। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ জমায় উৎসাহিত করতে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় মুনাফা। পাশাপাশি ঋণ আদায়সহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো হবে।
টিএই/এমআই