images

অর্থনীতি

পর্দা নামল ৪ দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপোর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম

বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পকে বিশ্ব বাজারে পরিচয় করিয়ে দিতে চার দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপোর আয়োজন করেছে বিসিএমইএ। নানা আয়োজন আর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অবশষে সোমবার (১ ডিসেম্বর) পর্দা নামল সিরামিক এক্সপোর।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় শুরু হয় এই প্রদর্শনী।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) আয়োজিত এই প্রদর্শনী এবারের আয়োজন প্রমাণ করেছে দেশের সিরামিক শিল্প দ্রুত রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ থেকে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান ও ৩০০টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে জমে উঠেছে এই আয়োজন। এর আগে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করার মধ্যে দিয়ে পর্দা নামে এবারের আসরের। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

এই প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, ডিজাইন ট্রেন্ড এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়ে বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভা। এতে দেশের উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা এবং আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। মেলায় তিনটি সেমিনার, চাকরি মেলা, বিটুবি ও বিটুসি মিটিং, লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন এবং নতুন পণ্য উদ্বোধনসহ শিল্পের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

উদ্যোক্তাদের মতে, অটোমেশন, উন্নত ডিজিটাল প্রিন্টিং, রোবোটিক হ্যান্ডলিং ও সেন্সর ইন্টিগ্রেটেড পণ্যের ব্যবহার ভবিষ্যতের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। এসব প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

বর্তমানে দেশে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার মিলিয়ে ৭০টির বেশি কারখানা গড়ে উঠেছে, যেখানে বছরে বাজারের আকার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। ৫০টির বেশি দেশে রফতানি হওয়া সিরামিক পণ্য থেকে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। শিল্পে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেলায় শুধু সিরামিক পণ্য নয়, কাঁচামাল ও মেশিনারি স্টলগুলোয়ও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও পণ্য দেখে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং দু-একজন ইতোমধ্যে অর্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিসিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে সিরামিক খাতে। স্থানীয় উৎপাদনেই দেশের টাইলসের ৮৫ শতাংশ, টেবিলওয়্যারের ৯২ শতাংশ, স্যানিটারিওয়্যারের ৫৯ শতাংশ এবং সিরামিক ইটের প্রায় ৯৯ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদিত হয়েছে টেবিলওয়্যার ২৯ কোটি ২২ লাখ, টাইলস ২৩ কোটি ৭০ লাখ, স্যানিটারিওয়্যার ১ কোটি ৬৩ লাখ এবং সিরামিক ইট ১০ কোটি ৬৪ লাখ। দেশে মোট বাজারের আকার প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নীতিসহায়তা পেলে দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি খাত হতে পারে সিরামিক।

বিসিএমইএ সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, ‘নীতি সহায়তা পাওয়া গেলে পোশাকের পর সিরামিকই হতে পারে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি খাত। আগে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর থাকলেও এখন ৮০ শতাংশের বেশি পণ্য দেশেই তৈরি হয়।’

তিনি সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, যন্ত্রপাতির ইনভয়েসভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং গ্যাসকে ‘কাঁচামাল’ হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান।

এবারের এক্সপোয় আকিজ-বশির গ্রুপের ‘আর্কফিউচার স্থাপত্য প্রতিযোগিতা’ শিক্ষার্থী ও তরুণ স্থপতিদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। আয়োজকেরা আশা করছেন, সিরামিক এক্সপো দেশি শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এমআর/এমআই