images

অর্থনীতি

ঢাকা চেম্বার–কানাডা বাণিজ্য বৈঠক: বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড বিষয়ক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি মিনিস্টারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) ডিসিসিআইর গুলশান সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং-সহ উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী জানান, ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ–কানাডা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—যার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১.৩২ বিলিয়ন এবং আমদানি ৯০১.০৯ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, কানাডা বাংলাদেশের ২০তম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী এবং বর্তমানে এদেশে কানাডার বিনিয়োগ ১৩২.৮৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রাজিব এইচ চৌধুরী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, ডিজিটাল অবকাঠামো, স্মার্ট লজিস্টিকস ও কোল্ডচেইন ব্যবস্থাপনায় কানাডীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি চামড়া, পাট, সাইকেল, সিরামিক, তৈরি পোশাক, ঔষধ, হিমায়িত খাদ্য, সফটওয়্যার ও বিপিও সেবা—এসব খাতে কানাডার কাছে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

কানাডার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি মিনিস্টার ও চিফ ট্রেড কমিশনার সারা উইলশো বলেন, কানাডার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এসএমই, এবং যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সর্বোচ্চ রফতানি বাজার হলেও পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্য এখন জরুরি। তিনি শিক্ষাখাতে কানাডার শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কানাডায় পড়াশোনা করছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে দুদেশের যৌথ কাজের সুযোগ ব্যাপক।

সারা উইলশো জানান, অটোমোটিভ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে কানাডার শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং এসব খাতে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নিতে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থার উন্নয়নে কানাডা সহযোগিতা করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন, ভোকেশনাল ট্রেনিং, নার্সিং, অ্যাগ্রো-টেক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কানাডা কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সালেম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং কানাডার সিনিয়র ট্রেড কমিশনার ডেবরা বয়েসও উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/ক.ম