নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৯ এএম
শীতকালীন সবজিতে ভরপুর রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। বর্তমানে সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও চড়া। ক্রেতারা বলছেন, মওসুমের সবজি আসায় আশা করেছিলাম দাম কমবে। দাম কিছুটা কমলেও তা আশানুরূপ নয়।
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে— সবজির সরবরাহ গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বাজারে এখন লাউ, বেগুন, টমেটো, শিম, শশা, কুমড়া, করলা, বরবটি, পুঁইশাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজির প্রাচুর্য; তবুও দাম কমেনি বরং স্থিতিশীলভাবেই চড়া রয়েছে।
পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ থেকে উৎপাদন ভালো আসায় ট্রাকে করে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ সবজি ঢুকছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। কিন্তু বাজারে ‘অঘোষিত সিন্ডিকেট’ দাম কমতে দিচ্ছে না। ফলে খুচরা বাজারে আসার পর সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে আরও বেশি।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী শামসুল আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য পাচ্ছি। কিন্তু ট্রাকভাড়া, শ্রম খরচ, বাজার ফি— সব মিলিয়ে পাইকারি দাম কমানো যাচ্ছে না। তবে দাম যে একেবারে কমে নাই তা বলা যাবে না। খুচরা বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে আশা করা যায় সপ্তাহ খানেক পর দাম পড়ে যাবে।’
যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, রায়েরবাগের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন ৮০–১০০ টাকা, টমেটো ৯০–১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০–১৫০ টাকা, আলু ২০–২৫ টাকা, বরবটি ১০০–১২০ টাকা, করলা ৮০–৯০ টাকা, লাউ ৭০–৮০ টাকা (একটি), পুঁইশাক ৩০–৩৫ টাকা, লাল শাক, মুলা শাক প্রতিমুঠো ৩০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীতে বাজার করতে আসা রহিমা বেগম বলেন, ‘বাজারে সবজির পাহাড়, সস্তা হওয়ার কথা। কিন্তু দাম শুনলে মাথা ঘুরে যায়। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
ক্রেতাদের অভিযোগ— সরবরাহ যখন বেড়েছে এবং পরিবেশ অনুকূল, তখন দাম কমা স্বাভাবিক। কিন্তু এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে দাম উঁচুতে ধরে রাখছে।
একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষ কষ্টে আছে, কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে। সরকার নজরদারি বাড়ালেই দাম কমবে।
বিক্রেতারা দাবি করছেন, তারা মুনাফা বেশি করছেন না; বরং পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের হাতে কিছু নেই। পাইকারি বাজারে রাতারাতি ১০–১৫ টাকা বাড়ালে আমরা কম দামে বিক্রি করব কীভাবে?
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না— এটা বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন অনেকে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারি নজরদারি জোরদার না হলে এবং পাইকারি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে দাম কমবে না। সরবরাহ বাড়লেও দাম কমানোর কোনো উৎসাহ নেই বাজারে।
পরিবহন খরচ, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব কিছুর দাম যখন উচ্চ, তখন সবজির দামও চড়া থাকায় মাসিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। অনেকে এখন প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক পরিমাণ সবজি কিনে ঘরে ফিরছেন।
ফলে বাজারে সবজি দিয়ে সয়লাব হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। ভোক্তারা এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন— সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে— এই সাধারণ নিয়ম কেন আর কাজ করছে না?
এমআর/এফএ