নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৪ এএম
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি আলুর দামও কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকায়।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের মজুত এখন প্রায় শেষের দিকে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকেও এই মুহূর্তে আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ বাড়ছে, আর তার প্রতিফলন পড়ছে খুচরা দামে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছরই নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ ওঠার আগের সময়—অক্টোবর ও নভেম্বর—বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া থাকে।
বর্তমানে মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর অঞ্চলের ছোট আকারের পেঁয়াজ রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। পাবনার ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকায় মিলছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও এসব এলাকার পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে—প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজের দামে এই ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, অক্টোবর পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালোই ছিল। কিন্তু নভেম্বরের শুরু থেকেই মজুত কমতে শুরু করে। সেই ঘাটতির সুযোগে বাজারে দাম বাড়ছে দ্রুত।
তাদের মতে, ডিসেম্বরের শুরুতে আগাম মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমার সম্ভাবনা আছে। তার আগে নভেম্বরজুড়ে বাজারে দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ও পেঁয়াজ আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, ‘এখন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেই। আবার দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা অনুমতি চেয়েছি, কিন্তু এখনো পাইনি।’
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত বছরও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।
এদিকে শীতে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফার্মের ডিম ও মোটা চালের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া গেছে। ভারত থেকে স্বর্ণা ও পাইজাম চাল আমদানি হওয়ায় এসব চালের দামও কমেছে।
তবে দিনের বাজারে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেক। এক সবজি বিক্রেতা জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দূর থেকে ক্রেতারা আসেননি। এক মাংস বিক্রেতা বলেন, ‘আজ বেচাকেনা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। আশপাশের ক্রেতাদের ওপরেই ভরসা।’
এআর