নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩০ এএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম এখন লাগামহীন। লাগামহীন বাজারে অনেকের সাধ্যের বাইরে মাংসের দাম। ইচ্ছে থাকলেও লাগামহীন বাজারে বেশি দাম হওয়ায় মাংস কেনার সামর্থ্য নেই নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের। এতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দু’টি প্রোটিনের উৎস এখন প্রায় নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে গিয়ে কোনোভাবেই মাংস কেনার সুযোগ মিলছে না। অনেক পরিবার আগে প্রতি মাসে একবার গরুর মাংস কিনলেও এখন তা ছয় মাস পর কিনতে পারছেন। কোনো কোনো পরিবারের কোরবানির ঈদ ছাড়া গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।
রাজধানীর মগবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি, ঝিগাতলা কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে- গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও যার দাম ছিল ৬৫০–৬৮০ টাকার মধ্যে। মুরগির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই। ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ২০০–২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে মাংসের বাজারে তেমন ক্রেতার দেখা মিলছে না।
ভোক্তারা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো লক্ষণ নেই সরকারের। আয়ের সাথে ব্যায়ের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় মাংসের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যও এখন দিনদিন বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। আয় আর ব্যায়ের হিসাব কোনোভাবেই মিলছে না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও আয় আগের মতোই আছে। যার ফলে, চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
খিলগাঁও বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হাসান বলেন, ‘গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা সপ্তাহে দুই দিন মুরগি খেতাম। এখন মুরগি সপ্তাহে একদিন খেতে হয়। কিন্তু গরুর মাংস তো মাসে একবারও কেনা সম্ভব হয় না। বাজারের নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে; সেই অনুপাতে আমাদের আয় বাড়েনি। পুরো বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের এখন হাঁসফাঁস অবস্থা।’
মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা বাজারে কথা হয় আনেয়ার করীমের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে প্রতি মাসে একবার গরুর মাংস ও প্রতি সপ্তাহে একবার মুরগির মাংস খেতাম। এখন বাসা ভাড়া, বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসার খরচ মিলে গরুর মাংস বাদ দিয়ে মাসে একবার মুরগির মাংস কিনে নেই। সবজির যেই দাম বেড়েছে। এখন জীবনযাপন করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাজার ঘিরে অস্থিরতা শুরু হবে। লাগামহীন বাজারে মানুষের জীবনযাপন দিনদিন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।’
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী পর্যায়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। খামারগুলোতে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন ব্যয়, চিকিৎসা খরচ সব মিলিয়ে খামারিরা আগের দামে বিক্রি করতে পারছেন না। যার ফলে বাজারে দামও বাড়ছে।
টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। খামারে যেভাবে দাম বাড়ছে, আমরাও সেইভাবেই বিক্রি করছি। ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখায়। মূল জায়গায় গিয়ে সরকার কোনোকিছু করতে পারে না। যদি সরকার উদ্যোগ নিয়ে পাইকারি বিক্রেতাদের সামলাতে পারে, তাহলে বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ কমবে।’
ঝিগাতলা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী গফুর মিয়া বলেন, ‘আমরাও চাই ক্রেতাদের কম দামে গরুর মাংস দেই। কিন্তু আমরা যে দামে বাজারে মাংস বিক্রি করি এতে ভোক্তারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখায়। আমাদের কিছু করার নেই। আমরাও চাই সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে।’
মাংসের বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত ক্রেতাদের কষ্ট কমার কোনো লক্ষণ নেই। গরু ও মুরগির মাংস এখনও তাদের নাগাল থেকে বেশ দূরে অবস্থান করছে।
একেএস/এফএ