জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৯ জুন ২০২২, ০৬:০৮ পিএম
পরিবহন খরচ ও ট্রানজিট সময় কমিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নত করতে ১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা (প্রতি ১ ডলারে ৯২ টাকা হিসেবে)। বাংলাদেশ ও নেপালের আঞ্চলিক বাণিজ্যের উন্নতিতে সহায়তার জন্য এই ঋণ অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক, যা বুধবার (২৯ জুন) সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় ত্বরান্বিত ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি (এক্সেস) প্রোগ্রাম ফেজ-১ মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের মূল বাধাগুলো সমাধান করতে সাহায্য করছে বিশ্বব্যাংক। এসব অর্থ ম্যানুয়াল এবং কাগজভিত্তিক বাণিজ্য প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত পরিবহন, বাণিজ্য অবকাঠামো এবং সীমাবদ্ধ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অর্থাৎ আঞ্চলিক বাণিজ্যের মূল বাধাগুলো সমাধান করতে সহায়তা করবে।
এই অর্থায়নের প্রোগ্রামের প্রথম ধাপে বাংলাদেশ এবং নেপালে দীর্ঘ ম্যানুয়াল এবং কাগজভিত্তিক বাণিজ্য প্রক্রিয়াগুলোকে ডিজিটালাইজড এবং স্বয়ংক্রিয় সমাধানে প্রতিস্থাপন করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রমনের সময় কমে আসবে। ট্রাক এন্ট্রি এবং এক্সিট নিয়ন্ত্রণ করবে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম। এর পাশাপাশি প্রোগ্রামটি নির্বাচিত সড়ক করিডোর উন্নত করতে এবং মূল স্থলবন্দর এবং কাস্টম অবকাঠামো উন্নত করতে সহায়তা করবে। এটি স্থলবেষ্টিত নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশ ও ভারতের গেটওয়ে দেশগুলোর সঙ্গে একীভূত করতে সাহায্য করবে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক।
দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যাফার বলেন, 'আঞ্চলিক বাণিজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আঞ্চলিক বাণিজ্য দক্ষিণ এশিয়ার মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ, যেখানে পূর্ব এশিয়ায় এটি ৫০ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধি করে লাখ লাখ মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।'
এক বিলিয়নের মধ্যে বাংলাদেশকে দেওয়া হবে ৭৫৩.৪৫ মিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে শেওলা স্থলবন্দরকে সংযুক্তকারী ৪৩ কিলোমিটার দুই-লেনের সিলেট-চরকাই-শেওলা সড়কটিকে জলবায়ু-সহনশীল চারলেন সড়কে উন্নীত করা হবে। এটি ভ্রমণের সময় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বেনাপোল, ভোমরা এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরে ডিজিটাল সিস্টেম, অবকাঠামো এবং আরও আধুনিকায়ন করা হবে। এই তিনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর, যার মাধ্যমে দেশের ৮০ শতাংশ ভূমি-ভিত্তিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসেরও আধুনিকীকরণ করা হবে। এই বন্দর দিয়ে দেশের সব আমদানি/রফতানির ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ এবং ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, 'যদিও বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনের উন্নতিতে সাহায্য করবে এবং প্রক্রিয়াগুলোর স্বয়ংক্রিয়তা কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকটের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করবে।'
এক বিলিয়নের মধ্যে ২৭৫ মিলিয়ন পাবে নেপাল। এর মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম হাইওয়ে বরাবর ৬৯ কিলোমিটার দুই-লেনের বুটওয়াল-গোরুসিংহে-চনাউতা সড়ককে জলবায়ু-সহনশীল চার-লেনের হাইওয়েতে উন্নীত করা হবে। এটি সম্পন্ন হলে ভ্রমণের সময় ৩০ শতাংশ কমে আসবে। এই হাইওয়ে ভারতের পশ্চিম সমুদ্রবন্দরগুলোতে আরও ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রদান করবে।
প্রকল্পটির আওতায় নারী উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য মহাসড়কের পাশে বাজার এলাকা তৈরি করবে, যাতে নারীরা উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগগুলো থেকে উপকৃত হতে পারেন। এটি বিশেষ করে বীরগঞ্জ এবং ভৈরহাওয়া সীমান্ত পয়েন্টে বাণিজ্য ও শুল্ক প্রক্রিয়া বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল সিস্টেম এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের (মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা) কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারিস হাদাদ-জারভোস বলেন, 'নেপালের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্ন আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রায়ই সংযোগের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পটি সবুজ, স্থিতিস্থাপক, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য প্রদেশগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবে নেপাল এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে ভালো সংযোগ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করবে।
নেপাল প্রজেক্টের লিডার এবং প্রোগ্রামের কো-টাস্ক টিম লিডার ওশেন কিউ বলেন, নেপালের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের অবনতি কমিয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং বিনিয়োগের স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতি এবং পরবর্তী সময়ে মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট (MVA) বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। দ্বিতীয় পর্বে ভুটানকেও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।'
প্রোগ্রামের বিশ্বব্যাংক টাস্ক টিম লিডার এরিক নোরা বলেন, 'এক্সেস প্রোগ্রামের একটি মূল ফোকাস হলো ট্রেড গেটওয়ের সময় কমিয়ে আনা, যা বাণিজ্য খরচ কমানোর জন্য অত্যাবশ্যক৷'
একে/ডব্লিউএইচ/জেবি