নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ মার্চ ২০২৫, ০২:০৩ পিএম
সরকারের কাছে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়শনের (বাজুস) নেতারা। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র পাহারা বসানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে সংগঠনটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ব্যবসায়ী নেতারা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষায় মালিকদের প্রতি বেশে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বাজুস নেতারা বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে কাজ করছে বাজুস। এই লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি আক্রমনের ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হত্যা, হত্যা চেষ্টা, অপহরণ চেষ্টা আমাদের জান-মালের নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি বাসা বাড়িতেও জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তার পরিবারবর্গ নিরাপদ বোধ করছে না। এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের হাতে জুয়েলারি ব্যবসায়ী হত্যা চেষ্টার ঘটনাও বাড়ছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাজুস। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদানে সরকারের আরো অধিকতর সহযোগিতা চায় বাজুস। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জুয়েলারি শিল্প ঘিরে সংঘটিত অপরাধ দমনে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করায় তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ চিত্তে ধন্যবাদ জানাই।
লিখিত বক্তব্যে বাজুসের সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসান বলেন, সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ ২০২৫ ভোর ৫ টায় বাজুসের সহ-সভাপতি ও দেশের স্বনামধন্য জুয়েলারী প্রতিষ্ঠন অলংকার নিকেতনের কর্ণধার এম. এ. হান্নান আজাদের বাসায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ও ছদ্মবেশী ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল হামলা চালায়। এই সময় তার বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এমন কি এম এ হান্নান আজাদকে অপহরণের চেষ্টা করে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাজুসের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান সুজনের ওপর ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হয়। যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়।
তিনি জানান, বিগত জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৬ মার্চ ২০২৫ দেশের প্রায় ২৩টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১১টি, আশুলিয়া সাভারে ১টি, মুন্সিগঞ্জে ১টি, খুলনায় ৪টি, কুমিল্লায় ১টি, পটুয়াখালীতে ২টি, ময়মনসিংহে ১টি, সিলেটে ১টি ও হবিগঞ্জে ১টি প্রতিষ্ঠানে চুরি ও ডাকাতি সংঘটিত হয়। আশুলিয়া সাভারে ডাকাতির সময় ডাকাতদের গুলিতে একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী নিহত হন এবং বনশ্রীতে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। বিগত এক বছরে এই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশের ২৩টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪৪ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।
বাজুস নেতারা বলেন, এ সব ঘটনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। এজন্য জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের আলাদা দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র প্রহরার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের সব জেলার জুয়েলারি মার্কেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই হওয়া অলংকার উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ১৫ এপ্রিলের পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বাজুস।
সংগঠনটি জানায়, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ করছে বাজুস। এ ক্ষেত্রে করণীয়-
১. নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন;
২. প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাহিরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা;
৩. সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করা;
৪. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ নিশ্চিত করা;
৫. মার্কেটে অবস্থিত জুয়েলারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মালিকগণ মার্কেট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নিজ উদ্যোগে পালাক্রমে পাহার নিশ্চিত করা;
৬. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সোনা পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা গ্রহণ করা;
৭. অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার সম্মুখিন হলে পুলিশ প্রশাসন ও বাজুসকে অবহিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাজুসের ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি গুলজার আহমেদ, সহ-সভাপতি এম. এ. হান্নান আজাদ, সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসান, সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খোকন ও সহ-সভাপতি সমিত ঘোষ অপু প্রমুখ।
এসএইচ/ইএ