নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৩, ১১:২১ পিএম
‘বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সরকার। মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনও দুঃসাধ্য। ইতোমধ্যেই মূল্যস্ফীতির হার নয় শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।’
রোববার (১৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিপিডি বাজেট ডায়ালগ-২০২৩’ শীর্ষক সেমিনারে বাজেট পর্যালোচনা করে এমন অভিমত তুলে ধরেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর নজর না দিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপের প্রেক্ষিতে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে সিপিডি।
সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সিপিডি জানায়, সামষ্টিক অর্থনীতিতে নানা ধরনের চাপ আছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে অর্থনৈতিক বাস্তবতার মিল নেই। বাজেটে চলমান সংকটের স্বীকৃতি ও সমাধানের উদ্যোগ অপ্রতুল। এনজিও ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কর আরোপের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সিপিডি।
সংগঠনের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনী বছরে কোনোভাবেই এমন বাজেট হতে পারে না। এটা অবৈজ্ঞানিক ও অবাস্তবায়নযোগ্য। এটা অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।
সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এবারের বাজেট নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা আছে। আমরা চেষ্টা করছি ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের।
তিনি আরও বলেন, ২ হাজার টাকা কর সবার জন্য নয়। প্লট, ফ্ল্যাট, গাড়ি ক্রয়সহ এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের লেনদেন যারা করবেন, তাদের এই কর বাধ্যতামূলক। আমরা বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের উন্নয়ন নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।
বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটু সমস্যা হয়েছে তার মানে কী আমাদের কোনো অবদান নেই। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন চাই সুশাসন নয়। একটা গাছ লাগালে ফল হতে সময় লাগে। সুতরাং সুশাসনের কথা বলে যারা দেশকে আবার লুটপাট করতে চায় তাদের জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, সু-শাসন নিয়ে বারবার কথা হচ্ছে। একটা প্রমাণ দেন, আমরা কু-শাসন করেছি। আমরা তো সু-শাসন করছি। সাংবিধানিক ও আইনের বাইরে যদি কোনো কাজ করে থাকি, তাহলে আদালতে যান, জনগণের আদালতে যান এবং বলেন। এগুলো না করে বকা-ঝকা করবেন, সেটা তো রাজনীতি নয়, গণতন্ত্রের ভাষা নয়। আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলছি, গ্যালারিতে বসে খেলতে পারবেন না, মাঠে নামুন। মাঠে নেমে খেলুন। এটা না করে চিৎকার করবেন না। জনগণ যদি আপনাদের কথা শুনত তাহলে আপনাদের কথা শুনে মাঠে নামত। আমাদের হরতালের উদাহরণ দিয়েছেন, আমাদের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকুন, দেখেন কয়জন মানুষ বের হয়?
তিনি বলেন, বাজেট এখন প্রস্তাবিত। এটা খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বাজেট সরকার তৈরি করছে। রবীন্দ্রনাথের একটা কথা আছে, অবহেলার চেয়ে আঘাত উত্তম। আমাদের বাজেট যে অবহেলিত নয়, সেটা বড় বিষয়। আরও আঘাত আসবে, কিন্তু অবহেলা চাই না।
মন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বাজেটের সঙ্গে সম্পর্ক নয়। এটা চলমান রয়েছে। সত্যি কথা হলো, আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। বিশেষ করে ৩০ শতাংশ দ্ররিদ্র মানুষের জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সামাজিক সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন খাতে ভাতা ও আওতা বাড়িয়েছি। তাদের সুবিধার জন্য কম দামে পণ্য সরবরাহ করছে সরকার।
সেমিনারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নন-প্রফিট এনজিওগুলোকে কোম্পানি আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর দিতে পারলেও কীভাবে একটি গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করপোরেট কর দেবে? এটা কেমন শিক্ষাবন্ধব বাজেট হলো?
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বাজেট পাসের আগে আয়কর আইন পাস করা হচ্ছে। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। আইনের সঙ্গে অর্থবিলের সম্পর্ক নেই। কেন এটা করা হচ্ছে, আমরা বোধগম্য নয়।
ডব্লিউএইচ/এএস