জেলা প্রতিনিধি
০৭ মে ২০২৩, ০৮:১৯ পিএম
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরার ব্যস্ত সময় পার করছেন শরীয়তপুরের জেলেরা। নদীতে দিনরাত ফেলছে জাল কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। নদী থেকে অনেকটা খালি হাতেই ফিরছেন জেলেরা, উঠছে না খরচের টাকাও। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
জাটকা নিধন বন্ধে শরীয়তপুর পদ্মা নদীতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ৩০ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে আবার নদীতে ইলিশ ধরতে নামেন জেলেরা। কিন্তু গত সাত দিনেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে হতাশ শরীয়তপুরের হাজারও জেলে। এছাড়া অন্য যেসব মাছ ধরা পড়ছে তাও পরিমাণে কম। কেউ কেউ আবার খালি নৌকা নিয়েই ফিরছেন ঘাটে। আবার নৌকা নিয়ে দিনে ও রাতে নদীতে থেকে হাতেগোনা কয়েকটি মাছ নিয়েই ঘাটে ফিরছেন অনেক জেলে। এ নিয়ে বিপাকে আড়ৎদারাও।
রোববার (৭ মে) সকালে সরেজমিন শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী সুরেশ্বর ঘাট, নড়িয়া ঘাট ও শফি কাজির মোড়ের ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা।
আর যে পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচ মেটাতে গিয়ে নতুন করে দেনায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে জানান জেলেরা।
সুরেশ্বর ঘাটের ইউনুস ব্যাপারী বলেন, দীর্ঘ দুই মাস অলস সময় কাটানোর পর তারা নদীতে নামলেও মিলছে না তেমন ইলিশ। রাতভর জাল টেনে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার বেশি ইলিশ উঠছে না। এতে তেল খরচ এই খরচ পোষায় না। আবার নিজেরা রাখব কি। ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছি। কিস্তির টাকাও কামানো যাইতাছে না।
শফি কাজির মোড়ের জেলে রোমান ঢাকা মেইলকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর ভেবেছি মাছ পাব, গত দুই মাস যে কষ্টে ছিলাম মাছ পেলে হয়তো কষ্টটা কষ্ট মনে হতো না। বসে খেয়ে ধার দেনায় জড়ায় গেছি। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাই তা একেবারেই সামান্য। এ দিয়ে নৌকার তেলের খরচ ওঠে না। আর সংসার চলবে কী করে। আবার এর উপর ধারদেনা, মাঝিগোর খরচ।
বিপাকে পড়েছে শরীয়তপুরের মাছ ব্যবসায়িরা। মাছ নেই তাই জমছে না আড়ৎগুলো। এ বিষয়ে আড়ৎদাররা বলেন, মাছ কম থাকায় ইলিশের দাম কিছুটা বেশি তবে মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে ধরা পড়লে আবার আগের দামে বেচা যাবে। পানি বৃদ্ধি পেলে মাছের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
তবে এখনই হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মৎস্য বিভাগ। আশা করা যায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে পাল্টে যাবে চিত্র।
নড়িয়া মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পদ্মার বিভিন্ন স্থানে চর পড়েছে যার কারণে ইলিশের উৎপাদনটা কম। তবে আমরা আশা করি বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিনিধি/এসএস